রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

টি. এস. এলিয়টের The Lovesong of J. Alfred Prufrock-এর অনুবাদ


খোন্দকার আশরাফ হোসেন | 

ইংরেজি কবিতায় আধুনিকবাদের জনক টি. এস. এলিয়ট (T. S. Eliot)। যে-কবিতাটি তাঁকে প্রথম বিশ্বখ্যাতি এনে দেয় তাঁর নাম The Lovesong of J. Alfred Prufrock’                           . আমেরিকায়-জন্ম-নেয়া এলিয়ট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি-ফেরতা হয়ে ইংল্যান্ডে আসেন। লন্ডনে তখন মোটামুটি আসর জাঁকিয়ে বসেছেন আরেক প্রখ্যাত মার্কিনি কবি, এলিয়টের চেয়ে বয়সে বড়, এজরা পাউন্ড।
পাউন্ড তরুণ এলিয়টকে সাগরেদির তালিম দেন এবং তাঁকে কবি-মহলে পরিচিত করার স্বারোপিত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সালটা ১৯১৫। এলিয়টের পকেট হাতড়িয়ে এলিয়টের সদ্য-লেখা এই কবিতাটি পান পাউন্ড, এবং আমেরিকার শিকাগো শহর থেকে প্রকাশিত হ্যারিয়েট মনরো সম্পাদিত Poetry ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে দেন। কবিতাটি প্রকাশিত হলে এলিয়টের নাম আটলান্টিকের দুই পারেই ব্যাপক পরিচিতি পায়। এ কবিতার নায়ক আলফ্রেড প্রুফ্রক নামের এক মধ্যবয়স্ক, টিঙটিঙে চেহারার টেকো মানুষ, যে শহরের বিত্তবান এলাকার নৈশক্লাব এবং শিল্পগ্যালারিগুলোতে ঘোরাঘুরি করে, সুন্দরী রমণীদের সান্নিধ্যলাভের আশায়, কিন্তু কাঙ্খিত রমণীর কাছে প্রেমনিবেদনের সাহস পায় না। দ্বিধাদীর্ণ তাঁর মন, যেন কমিক হ্যমলেট, নিজের মধ্যে বিভক্ত। তীব্র রিরংসাকে প্রশমনের জন্য অনন্যোপায় হয়ে দিবাস্বপ্নের জলকুমারীদের মধ্যে লিবিডোর নিরাকরণ খোঁজে। আধুনিক নাগরিক মানুষের খিন্ন, উদ্ভাসহীন ও অনির্দেশ্য জীবনযাপনেরও প্রতিনিধি সে। বস্তুত, প্রুফ্রক আধুনিক মানুষ নামের এক হাস্যকর অথচ করুণ অস্তিত্বের প্রতিনিধি। কবিতাটির, এবং বিশেষত এর নায়ক প্রুফ্রকের, ছায়াপাত ঘটেছিল তিরিশের দশকের বাংলা কবিতায়; এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের হরিপদ কেরানির (বাঁশি) মধ্যেও। ( অধিক জানকারির জন্য পাঠক দেখতে পারেন মৎরচিত প্রবন্ধ প্রুফ্রকের পুত্রগণ অথবা বাংলা কবিতার নির্বিণ পুরুষ [কবিতার অন্তর্যামী / নান্দনিক] )

অতঃপর অনুবাদপ্রসঙ্গ। নগরচারী প্রুফ্রককে ঢাকা শহরের অধিবাসীরূপে পুনর্সৃজনের লোভ সামলাতে পারিনি। তার নতুন অবতার আলফু বেপারি, যে নাকি জিন্দেগিডারে মাইপ্যা লইছে বুরহানির গিলাছ দিয়া। পুরান ঢাকার অধিবাসীদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভাষিক ও বাচনিক আচরণে তাকে উপস্থাপন আমোদজনক হতে পারে। ঐ বিশেষ ডায়ালেক্টের সবিশেষ গুণগ্রাহী আমি, তাই এই নিরীক্ষা। পাঠক বিচার করবেন, আমাদের নিজস্ব সামাজিক পরিবেশে প্রুফ্রক সাহেব মানানসই হয়েছেন কিনা। - খো আ হো

আলফু সরদারের পিরীতের লাচাড়ি
(এলিয়ট ছাহেবের The Lovesong of J. Alfred Prufrock-এর অ্যাকখান পুষ্ট-মদন তরজমা)

লও যাই, তুমি আর আমি
এই মগ্রবের ওক্তে আসমানডা যহন ভ্যাট্কায়া রইছে
টেবিলের উপ্রে মিরকির বিমারীর লাহান;
লও যাই আদ্দেক সুনসান গল্লির মাইদ্দে দিয়া
যেহানে নওবপুরের হগ্গল একরাইতের হৈটালগুলাত
কারা জানি ফাসুরফুসুর করে
আওর ছালাদিয়া রেস্টরেন্টগুলানভি বেচে ইলশামাছের সালুন
গল্লিগুলান ঘুরান-প্যাঁচান দিয়া মনে লয় কী জানি কি জিগাইবার চায়
আরে মিয়া, জিগায়ো না, হ্যাইডা কী
লও যাইগা, এক পাক দিয়া আহি।

ঘরের মাইদ্দে জেনানারা আহে আর যায়
মাইকেল জ্যাকসনের নাম জিব্বার আগায়।

হইলদ্যা কুয়াশা জিলানার লগে পাছা ঘসে
হইলদ্যা ধুমা ভি খুমা ঘসে জিলানার লগে
সইন্ধ্যার কোনাকাঞ্চির মাইদ্দে জিব্বা দিয়া চাটে,
হ্যারপর সুক্না তাওলার পাসে বয়া থাকে;
দালানের চিমনি থাইক্কা কালাকালা ঝুল গিরবার লইছে পিঠের উপ্রে
আওর ম্যাওডা হেইসুম দেয় একখান ফাল গল্লি বরাবর
কী সোন্দর কাত্তিক মাসের রাইত সমঝ্যা
ঘুম্তে থাকে দালানের চাইরপাসে, হ্যার পর নিন্দ যায়।

জ্বি হাঁ টাইম তো অইবই।
কিল্লাইগা -
হইলদ্যা ধুমা গল্লির মাইদ্দে লটপটি খাইবার লইছে
আওর জিলানার লগে ঘসবার লইছে পাছা;
টাইম অইব, টাইম অবস্সই অইব
খুমা দেহনের লাইগা খুমা তয়ার করনভি লাগব
টাইম অইব খুনখারাবির টাইম অইব বানানের
টাইম অইব আতের হগল কাম সারনের
যেই আত প্রশ্ন গিরাব তোমার তস্তরীর ওপ্রে
তোমার লাইগা টাইম, আমার ভি টাইম লাগে
টাইম হইব হ আর না-এর হাজার দিল্লাগির
হাজার খোয়াব আওর হাজার গোস্তাখির
তোমার লগে বয়া চা খাওনের আগে।

ঘরের মাইদ্যে মাইয়ারা আহে আর যায়
মাইকেল জ্যাকসনের নাম জিব্বার আগায়।

আর হাছাই টাইম অইব একবার
কওনের হিম্মত আছে নিকি, হিম্মত আছে নিকি আমার?
টাইম পিছন ফিরনের টাইম সিরি দিয়া নামনের
চান্দির উপ্রে গুল্লিস্তানের খাল্লি ইস্টেডিয়াম লয়্যা
(হ্যারা কইব, চুলগুলান কেমুন পাতলা অয়া গেছেগা !)
আমার এই সেরওয়ানির কলার সক্ত অয়া খাড়া গলা বরাবর
পান্জাবিডা গিলা করা আওর কড়া ইস্তারি মারছি
(হ্যারা কইব, মাগার পাওদুইডা আর ড্যানা কেমুন হুকায়া গেছে !)
আমার কি হিম্মত আছে
দুনিয়াডারে ডিস্টার্ব করনের?
একমিনিটে টাইম অইব
ইরাদা করনের আর এক মিনিটে ভাঙ্গনের।

কিল্লাইগা
আমি তো ছব হালারে চিনছি,
চিনছি মগরব, ফজর আর আছর,
জীবনডারে মাইপ্যা লইছি বুরহানির গিলাছ দিয়া
ঐযে কারা জানি ফুসুরফাসুর করতাছে দূরের কুন্ কামরার ভিত্রে
কড়া কাওয়ালির আওয়াজের মাইদ্দে ভি হেই গলা চিনা লাগতাছে
তাইলে কন কেম্নে হিম্মত দেখাই ?

আওর চিন্না লইছি ছবগুলান চোখ,
যেই চোখগুলান আপনেরে বানায় এক বানাইন্যা বাত
আওর যেই টাইমে আমারে প্যারাক দিয়া গাইথ্যা ফেলায়
আর আমি হালায় কেউচ্চার লাহান মুচড়াইবার লই
তখন ক্যামনে বাতচিত বিসমিল্লা করন যায়,
ছিগরেটের পাছা ভি থুক দিয়া ফালান যায়?
আর ক্যামনেই বা হিম্মত দেখাই কয়া পারেন?
………………………..
কমু নিকি মগরবের ওক্তে চিপ্পা গল্লির মাইদ্দে কত ঘুমছি
আওর দেকছি একলা আদমি জিলানায় খাড়ায়া খাড়ায়া
ফতুয়া গতর দিয়া পাইপে ধুমা ছারবার লইছে ?
আব্বে এর চায়া যুদি অইতাম কাঁকড়ার একজুরা দাড়া
সুনসান দৈরার পার দিয়া কাতুরকুতুর কইরা আটতাম!
………………………..
আওর সইন্ধ্যাডা কেমুন খাতিরজমা নিন্দ যাইতাছে !
লাম্বা আঙুল দিয়া কেডা জানি বিলাইডার পসমে আত বোলায়
আর বিলাইডা নিন্দ যায় নৈলে কুইড়ামি করে, মাইঝালের উপ্রে
লাম্বা হয়া হুয়্যা থাকে, তোমার আর আমার মাঝখানে।

চা-চু, ফিন্নি জর্দা খাউনের পরে
হিম্মত কইরা কয়া ফালামু নিকি?
মাগার যতই কিনা এবাদত বন্দেগী কইরা কপালের মাইদ্দে দাগ ফালাই
রুজা-নমায-কুরবানী দেই পরহেজগার আদমির মাফিক,
আর আমার টাউক্কা মাথাডা ভি হালিম পাকাইবার লিগা আইন্যা ধরি ছামনে
কিচ্ছু কাম অহে না, হালায় আমি তো পীরপেগাম্বর না
যাউকগা, হেইডা বড় বাত না।
বাত অইলো আমার মর্দামির ওক্ত আমার চক্কের ছামনে ফাল পাড়ে
মাগার কিচ্ছু করা পারি না, আমার নসীবডা
ছময়মতন পানজাবির কুনা নইলে পায়জামা টাইন্যা ধরে।
মুদ্দা কতা, দিলে তাকত পাইনা, খালি ডরাই।

* * * *
না, আমি ত হালায় নবাব ছেরাজুদ্দলা না, অয়াও পারুম না।
আমি অইছি গুলাম হুছেন, আমারে না অইলে পালা জমে না,
দুই একহান সিন বিসমিল্লা করনের লাইগা আমারে লাগে, নবাবরে
দুই একহান সল্লা দেই, বহুত খাতির উতির করি মাইনসেরে,
কামে লাইগা খুসি হই, কেউ হুমুন্দির পো কইলে ভি দিলে ছান্তি লাগে
সবসুম চালাকির উপরে থাকি, পান থাইক্কা চুনভি গিরবার দেই না
পাকনা পাকনা বুলি ছাড়ি, কেউ মর্তবা বুঝে না
মজাক্ ঠিসারার মাফিক মনে অয়, দিনরাইত জুকারের লাহান ঘুরি।

বুড়া অইবার লইছি , অইবার লইছি বুড়া
আমি অহন উল্টায়া পরুম পায়জামাডার গুড়া।

মাথার পিছে সিথি করুম? একখান নাসপাতি খায়া পারি নিকি?
সাদা রুহিতপুরি তবন পিন্ধ্যা বুড়িগঙ্গার পার দিয়া আটুম.
নদীর মাইদ্দে জলপরীরা মেরা লাল দোপাট্টা মলমল
গীত হুনায় একজন আরেক জনেরে

মাগার আমার লাহান পুড়াকপাইল্যারে গীত হুনাইব না।
আমি দেকছি ঢেউয়ের উপরে বয়া হ্যারা সমন্দরের দিক যাইবার লইছে
আওর চুল আচড়াইবার লইছে সাদা চিরনি দিয়া
যেইসুম পানির উপ্রে বাসাত তুলবার লইছে সাদা কালা ঢেউ।

খাতিরজমা বয়া রইছি সমন্দরের বাসরঘরের মাইদ্দে
জলপরী মাইয়ারা গাইবার লইছে লীলাবালি লীলাবালি
আওর গলাত পরায়া দিতাছে ছৈবালের মালা
মাইনষের গলার আওয়াজ হুইন্যা টাস্কি ভাইঙা উঠি,

আওর আত্কা ডুইব্যা যাই পানির আন্দরে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন